বড় শহর—১২ : ফরিদপুর
স্বাধীনতার ৫০ বছরে রাজধানী ঢাকা যেমন বড় হয়েছে, তেমনি সম্প্রসারিত হয়েছে দেশের পুরোনো শহরগুলোও। বড় শহরের পরিবর্তন ও বাসযোগ্যতা নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনে এবার ফরিদপুর।
ফরিদপুরে যাওয়ার ‘নিমন্ত্রণ’ জানিয়ে পল্লিকবি জসীমউদ্দীন লিখেছিলেন, ‘তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়/ গাছের ছায়ায় লতায়-পাতায় উদাসী বনের বায়।’
কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামটি ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। তবে কবির বাসস্থান ছিল গোবিন্দপুর গ্রামে। কুমার নদের তীরের এই গ্রাম এখন ফরিদপুর শহরের অংশ। ১৯৭৬ সালে কবির মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সত্তরের দশকে ফরিদপুর শহরে দুটি বহুতল ভবন ছিল। শহরটি ছিল খোলামেলা ও ফুলের বাগানে ভরা। এখন ফরিদপুর পৌরসভায় ৬ থেকে শুরু করে ১৭ তলা পর্যন্ত উচ্চতার ভবন হয়েছে ১৮০টি। শহর বড় হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোনো পরিকল্পনার ছাপ নেই। পল্লিকবির সেদিনের ছিমছাম শহর, যে শহরে সবাই ‘মায়া-মমতায় জড়াজড়ি করে মায়ের বুকে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়ায়’ বসবাস করতেন, সেই শহর হয়ে উঠেছে বহুতল ভবনের জঞ্জাল।
ফরিদপুরের প্রবীণ শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ রায় কর্মকার বলেন, এ শহরে বসবাসরত পরিবারগুলোর আন্তযোগাযোগ ছিল খুবই হৃদ্যতাপূর্ণ। কে হিন্দু, কে মুসলিম—কোনো বাছবিচার করা হতো না। পাড়ায় পাড়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা লেগেই থাকত। সে ছিল এক অন্য রকম দিন।
0 Comments